রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্পে আরও দেড় হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেবে জাপান। জাপান সরকারের ৪৪তম ওডিএ লোন প্যাকেজের ২য় ব্যাচের আওতাধীন ৭ম পর্যায়ের এই ঋণের জন্য দু’দেশের মধ্যে বিনিময় নোট ও ঋণচুক্তি সই হয়েছে।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এনইসি-২ সভাকক্ষে ঋণচুক্তি সই হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান এবং জাপান সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি ও জাইকা অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইচিগুচি তমোহিদে ঋণচুক্তিতে সই করেন।
ইআরডি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ঋণ চুক্তিটির আওতায় জাপান সরকার বাংলাদেশকে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৫৬ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন (আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ সহায়তা দেবে। স্বাক্ষরিত ঋণের বাৎসরিক সুদের হার নির্মাণ কাজের জন্য ১.৬০, পরামর্শক সেবার জন্য ০.১০ এবং এককালীন ০.২ শতাংশ। এ ঋণ ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা (জিওবি ৬,৪০৬.১৬ কোটি, জাইকা ৪৩,৯২১.০৩ কোটি, সিপিজিসিবিএল সংস্থা নিজস্ব ১,৫২৭.৬৯ কোটি)। প্রকল্পের মেয়াদকাল জুলাই ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬। আগস্ট ২০২৩ সময় পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৭৮.৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬৫.১৪ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই প্রকল্পে জাইকা কর্তৃক পর্যায়ক্রমে ঋণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ইতোপূর্বে ৬টি পর্যায়ে মোট ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৫৪ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েনের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ৪৪তম ওডিএ লোন প্যাকেজ (২য় ব্যাচ)-এর আওতায় ৭ম পর্যায়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৫৬ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন দেয়া হবে।
দ্বি-পাক্ষিক পর্যায়ে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত জাপান সরকার বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টরে উল্লেখযোগ্য সহায়তা দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখে জাপান সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, পল্লী উন্নয়ন, পরিবেশ উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ অন্যান্য খাতের প্রকল্পে ঋণ ও বিভিন্ন প্রকার অনুদান সহায়তা হিসেবে ৩০.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।